**হত্যা মামলায় কারাগারে মুর্তুজা পলাশ: অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত**
ঢালিউড অভিনেতা **মুর্তুজা পলাশ**—যিনি জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী **অপু বিশ্বাসের** বিপরীতে আসন্ন থ্রিলার চলচ্চিত্র **‘শিকার’**-এ অভিনয় করছেন—২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন। এই ঘটনায় বহুল আলোচিত সিনেমাটির বাকি নির্মাণকাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
**১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬**-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং শেষে বাংলাদেশে ফেরার পর **২৮ আগস্ট** পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে, **ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে** তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে রিমান্ড শেষে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পরবর্তীতে মামলাটির খবর জানাজানি হলে অভিনেতার আইনি পরিস্থিতি এবং অপু বিশ্বাস অভিনীত সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
**হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মুর্তুজা পলাশ**
বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় মুর্তুজা পলাশকে **নামীয় আসামি** করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শিকার’ সিনেমার জন্য **নেপালে ২৫ দিনেরও বেশি সময় শুটিং** শেষে ২৮ আগস্ট পলাশ বাংলাদেশে ফিরে আসেন। নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে সিনেমার পুরো দল দেশে ফিরে এসেছিল বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পলাশকে **পুলিশ রিমান্ডে** নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিএমএম আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এখানে **অভিযোগ বা মামলা দায়ের এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের** মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। বর্তমানে প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলোতে পলাশকে মামলার একজন অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এতে তার চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
**গ্রেপ্তারের পর কী ঘটল?**
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, রিমান্ড চলাকালে তদন্তকারীরা পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একটি সূত্র দাবি করেছে যে, তদন্তকারীরা উক্ত ঘটনা এবং মামলায় নাম থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন।
তবে প্রতিবেদনে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তদন্তের ওই নির্দিষ্ট দাবিগুলো নিশ্চিত করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে **কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি**। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মামলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের দেওয়া তথ্যকে তদন্ত বা আদালতের কোনো সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণ্য করা উচিত নয়।
আপাতত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাপ্রবাহটি হলো—বিমানবন্দরে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়, এরপর তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
**অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ কেন অনিশ্চয়তার মুখে?**
আইনি পরিস্থিতির কারণে অপু বিশ্বাস ও মুর্তুজা পলাশ অভিনীত আসন্ন চলচ্চিত্র **‘শিকার’**-এর নির্মাণসূচিও প্রভাবিত হয়েছে।
ছবিটির শুটিংয়ের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে নেপালে সম্পন্ন হয়েছে। পরিচালক **কামরুজ্জামান রোমান**-এর মতে, নেপালের শুটিংয়ের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে এবং অক্টোবরে আরও কিছু কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পলাশ কারাবন্দী হওয়ায় বাকি শুটিংয়ের সময়সূচি চূড়ান্ত করা প্রযোজনা দলের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিচালক জানিয়েছেন যে, পলাশ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করছেন এবং প্রযোজনা সংস্থা আশা করছে তিনি শীঘ্রই মুক্তি পাবেন। যদি তা না হয়, তবে ছবিটির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য দলকে হয়তো অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এর ফলে, এই অভিনেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা সরাসরি **‘শিকার’**-এর বাকি অংশের নির্মাণকাজকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
**‘শিকার’-এর মাধ্যমে অপু বিশ্বাস ও পলাশের নতুন জুটি**
বাংলাদেশি বিনোদন জগতে এই খবরটি যে কারণে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তা হলো **অপু বিশ্বাস ও মুর্তুজা পলাশ**-এর জুটি।
সীমান্তবর্তী এলাকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত থ্রিলারধর্মী ছবি *শিকার*-এ এই দুই অভিনয়শিল্পী একসঙ্গে কাজ করছেন। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন **আবদুল্লাহ জহির বাবু** এবং এটি **রেজা ফিল্মস**-এর ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে।
জানা গেছে, অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় অপু বিশ্বাস ও মুর্তুজা পলাশের পাশাপাশি রয়েছেন **মাহমুদুল ইসলাম মিঠু** ও **সুমন আনোয়ার**। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অভিনয়শিল্পী **খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য**-ও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ফলে ছবিটিতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় অঞ্চলের অভিনয়শিল্পীরা যুক্ত থাকায় এর পরিসর ও নির্মাণ-প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
**নেপালে ২৫ দিনেরও বেশি সময়ের শুটিং সম্পন্ন**
পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই *শিকার*-এর পুরো দল নেপালে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং সম্পন্ন করেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের শুটিংয়ের পর্বটি ২৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং চলচ্চিত্রটির একটি বড় অংশের কাজ সেখানেই সম্পন্ন হয়েছিল। জানা গেছে, আকস্মিক বন্যার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর ২৮ আগস্ট পুরো দল বাংলাদেশে ফিরে আসে।
0 Comments